top of page
Search

অ্যাডভান্সড গুগল স্কলার সার্চ টুল এবং লিটারেচার রিভিউ নিয়ে কিছু কথা

  • Writer: প্রয়াস জামান
    প্রয়াস জামান
  • Feb 19, 2020
  • 3 min read

মানবসভ্যতার উৎকর্ষতার বা অন্য কোন প্রাণীর তুলনায় অনেকগুন এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটাই যে আমরা আমাদের পূর্বজনদের অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করতে পারি এবং সেটা যতটা ক্ষুদ্র কিংবা তাৎপর্যহীন হোক না কেন সেটাতে খানিকটা নিজের মত করে বৈচিত্র আনতে পারি যেটা অন্য প্রাণীদের মধ্যে খুবই বিরল। একটা বাঘের শাবক কখনোই তার পরিবারের শিক্ষার বাইরে গিয়ে নতুন আঙ্গীকে শিকারে সক্ষম নয়, বা তার মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুর সৃষ্টির উদ্দেশ্যও থাকে না। প্রজাতি হিসেবে আমরা মানুষরা এজন্যই অনেকটা এগিয়ে গেছি কারণ আমাদের পূর্বেকার সময়কার মানুষদের অর্জিত জ্ঞানটা আমরা বারবার পর্যালোচনা করি এবং বলাচলে আমাদের সভ্যতাও এর উপরেই দাঁড়িয়ে আছে।যেকোন বিষয়ের উপর দক্ষতা লাভের জন্য বা সেটায় নিজের সৃষ্টিশীলতা ও কল্পনার মেলবন্ধন পূর্বকার জ্ঞানের কোন বিকল্প খুব বেশি নেই যদিনা ব্যাপারটা একেবারেই নতুন কিছু না হয়ে থাকে। একই ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি খাটে গবেষণার জন্যও।ধরুন আপনি আণ্ডারগ্রাডে বা মাস্টার্স থিসিস করছেন। আপনাকে একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর গবেষণা করতে হবে তাহলে অবশ্যই আপনাকে ওই সুনির্দিষ্ট বিষয়টির ব্যাপারে সম্যক ধারণা অর্জন করতে হবে।থিসিসের জন্য তো একটা অংশ বরাদ্দই রাখতে হয় আপনি যে বিষয়ে গবেষণা করছেন বা করতে যাচ্ছেন সেটায় আগে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে মানে কি কি “গবেষণাধর্মী কাজ”, “কখন”, “কোথায়”, “কারা করেছেন”, “কতটুকু কাজ হয়েছে” এবং সেই গবেষণাগুলোর “ফলাফল কি” এবং “সেই ফলাফলের সামগ্রীক তাৎপর্য কতটুকু” এই ব্যাপারগুলোতে।সামগ্রিকভাবে এই বিষয়টাকে বলে লিটারেচার রিভিউ। লিটারেচার রিভিউ যে কেবল থিসিসের অংশ তা নয়, লিটারেচার রিভিউ পেপার বা রিসার্চ প্রপোজালের অংশও হতে পারে।


আমি পদার্থবিদ্যার ছাত্র, মাস্টার্সে থিসিস করেছি সুপারকন্ডাক্টিভিটি বা পরম পরিবাহিতার একটা ছোট্ট প্রায়োগিক বিষয় (অ্যাপ্লিকেশন) নিয়ে।আমার থিসিসে দ্বিতীয় চ্যাপ্টারটা পুরোটাই আমি লিখেছি সুপারকন্ডাক্টিভিটি নিয়ে। আমি থিসিস জমা দিয়েছিলাম এপ্রিলের ২২ তারিখ । তো একেবারে সুপারকন্ডাক্টিভিটির সূচনালগ্ন ১৯১১ থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত সুপারকন্ডাক্টিভিটির উপর বড়-ছোট ধরনের যত কাজ হয়েছে এবং তাদের গুরুত্ব কতটুকু তার প্রায় পুরোটাই আমি সংক্ষিপ্ত আকারে ওই চ্যাপ্টারটার একটা অংশে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম (থিসিসের লিংকঃ https://bit.ly/2RsODmj)। এই কাজটা করার জন্য অবশ্যই আমার বেশ কিছু পেপার, পেটেন্টের অংশবিশেষ বা অনলাইন আর্টিকেল পড়তে হয়েছিল। যেকোন গবেষণামূলক কাজে সবচেয়ে প্রথম ভরসার স্থল হলো গুগল স্কলার।লিটারেচার রিভিউয়ের জন্য আপনি এমনিতে সাধারণ গুগল সার্চও করতে ব্যাবহার করতে পারেন বা রেফারেন্স (বিবিলিওগ্রাফিক) ম্যানেজমেন্ট টুল ম্যাণ্ডেলে বা জোটেরো ব্যাবহার করতে পারেন কিন্ত গুগল স্কলার তাদের ডিরেক্টরিতে কেবলমাত্র যে জার্নাল পেপারই অন্তর্ভুক্ত করে তা নয় বিভিন্ন থিসিস, পেটেন্ট বা গবেষণামূলক অনলাইন প্রবন্ধও অন্তর্ভুক্ত করে। একারণে প্রাথমিকভাবে অনেক তথ্যের প্রয়োজনে গুগল স্কলারে সার্চ করাটা সবচেয়ে কার্যকরী হতে পারে।তবে এইক্ষেত্রে একটা ছোট সমস্যাও আছে, একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য গুগল স্কলারে খোজ করলে অনেক অপ্রাসংঙ্গিক বিষয়ও চলে আসতে পারে। আর এখানে গুগল স্কলারের অ্যাডভান্স সার্চ টুলটি কাজে লাগতে পারে।

গুগল স্কলারে অ্যাডভান্স সার্চ সাধারণ সার্চ থেকে খানিকটা আলাদা।এক্ষেত্রে আপনার চাহিদা বা অপশন আরেকটু প্রসারিত হয় এবং আপনার ঠিক যা প্রয়োজন সেই অনুযায়ীই (কাস্টমাইজড) খোঁজার সুযোগ থাকে।

এজন্য প্রথমে গুগল স্কলারে (Scholar.google.com) গিয়ে বাঁ-পাশের বাটনে ক্লিক করতে হবে।



সেখানে ক্লিক করলে একটা প্যানেল সামনে আসবে যেখানে লেখা থাকবে অ্যাডভান্সড সার্চ।




ওখানে ক্লিক করলে একটা পপ আপ স্ক্রীন আসবে সামনে। এখানে দেখতে পাচ্ছেন বেশ কয়েকটা সার্চ ফিল্ড বা টেক্সট ফিল্ড আছে।প্রথম দুটোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





প্রথম বক্সে (With all the words) মূলত আপনি কোন বিষয়ে খুঁজতে চাচ্ছেন সেটা লিখতে হয় এবং এর পরের বক্সে (With the exact phrase) ওই বিষয়টার অন্তর্গত ঠিক কোন বিষয়টা আপনার দরকার সেটা দিতে হয়।

একটা উদাহরণ দেই যেমন আমি কাজ করছি Superconducting magnetic Shield নিয়ে। এজন্য প্রথম বক্সে সেটা লিখলাম। এখন আমার জানতে হবে নতুন বা Novel কোন আইডিয়া নিয়ে কাজ হয়েছে কিনা বা এই বিষয়টা বা যন্ত্রটার নতুন কোন মডেল প্রস্তাবিত হয়েছে কিনা। এজন্য আমি দ্বিতীয় বক্সে কেবল লিখলাম নভেল (ছবিতে)।



সার্চ রেজাল্টে দেখতে পাচ্ছেন যে ফলাফলগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটিক ফিল্ডের কেবলমাত্র ওই পেপারগুলোই এসেছে যেগুলোর টাইটেলে বা পেপারটার কোন একস্থানে নভেল শব্দটি আছে। এরপর যে পেপারটা আমার দরকার সেই পেপারটা আরো কারা কারা সাইট করেছে বা পেপারটার তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়েছে(Cited by (if exists)) সেটাও দেখে নিলেই বোঝা যাবে যে ওই বিষয়টা নিয়ে কারা গবেষণা করছে।লিটারেচার রিভিউতে সেটাও আপনার বিবিলিওগ্রাফি বা রেফারেন্সের পরিমান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।




অ্যাডভান্স সার্চের আরেকটা অপশন টাইম নির্দিষ্ট করে দেয়া। ফলে একেবারে রিসেন্স পেপার যেমন খুজে পাওয়া সম্ভব হয় তেমনি সার্চের আউটপুটে পেপারের সংখ্যা কমে আসে যা সময়কে সাশ্রয় করে।




গুগল স্কলার অবশ্যই আপনার শতভাগ কাজই করতে পারবে তা নয়, এরসাথে লাইব্রেরী জেনেসিস এবং ম্যান্ডেলেজাতীয় টুলগুলো ব্যাবহার করে অবশ্যই আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো নিশ্চিত করতে পারবেন। কোন প্রশ্ন থাকলে বা আপনার আরো কোন ভালো পদ্ধতি জানা থাকলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।


ধন্যবাদ।

 
 
 

Comments


bottom of page